ক্লাস ১১ থেকেই এন্ট্রান্স? নিটের মতো পরীক্ষায় কন্টিনিউয়াস অ্যাসেসমেন্টের প্রস্তাব

কেন্দ্রীয় পরীক্ষা আয়োজক সংস্থা ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)-কে ঢেলে সাজা এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক সংস্কারের জন্য প্রাক্তন ইসরো চেয়ারম্যান কে রাধাকৃষ্ণনের নেতৃত্বে সাত সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটিকে দায়িত্ব দিয়েছিল কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক। ওই কমিটি দেশবাসীর কাছে পরামর্শ আহ্বান করেছিল, কী করে পরীক্ষা ব্যবস্থাকে যথাসম্ভব নিশ্ছিদ্র করা যায়।

তাতে সাড়া দিয়ে এককালীন পরীক্ষার চলতি ব্যবস্থাটাই তুলে দেওয়ার পক্ষে একযোগে সওয়াল করলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় শিক্ষাসচিব-সহ দুই অবসরপ্রাপ্ত আমলা এবং এক প্রাক্তন আইআইটি অধিকর্তা। কনটিনিউয়াস অ্যাসেসমেন্ট সিস্টেম ফর অ্যাডমিশন (কাসা) নামের সেই ব্যবস্থা কেমন হবে, তা বিশদে উল্লেখ করা হয়েছে প্রস্তাবে।

বলা হয়েছে, পরীক্ষার্থীদের মূল্যায়ন এখনকার মতো একদিনের একটিমাত্র পরীক্ষা দিয়ে না করে, করা হোক একাদশ-দ্বাদশের টানা দু' বছর ধরে। এই দু' বছরের প্রতি ত্রৈমাসিকে দেওয়া মোট আটটি পরীক্ষার মূল্যায়নকেই গুরুত্ব দেওয়া হোক নিট, ইঞ্জিনিয়ারিং জয়েন্ট এন্ট্রান্সের মতো প্রবেশিকার ক্ষেত্রে। এতে এড়ানো যাবে প্রশ্ন ফাঁস-সহ পরীক্ষা সংক্রান্ত নানা দুর্নীতি।

যাঁরা প্রস্তাব দিলেন# এককালের শীর্ষস্থানীয় তিন প্রশাসনিক কর্তা এই প্রস্তাব দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় শিক্ষাসচিব আর সুব্রহ্মণ্যম, যোধপুর আইআইটি-র প্রাক্তন অধিকর্তা প্রেম কালরা এবং কোল ইন্ডিয়ার প্রাক্তন চেয়ারম্যান সুতীর্থ ভট্টাচার্য।

# কেন্দ্রীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের লক্ষ্যে ওই তিন জন কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকে তাঁদের পরামর্শ পাঠিয়ে দিয়েছেন।

প্রস্তাবটা কেমন# নিট, কুয়েট বা জয়েন্ট এন্ট্রান্সের একটিমাত্র পরীক্ষার বদলে ৪০:৪০:২০-সার্বিক ভাবে কাসা-তে এই তিন ধরনের ওয়েটেজের মূল্যায়ন একত্র করে শতকরা ১০০ ভাগ নম্বর দেওয়ার পক্ষে সওয়াল করা হয়েছে।

# প্রথমেই বলা হয়েছে একাদশ-দ্বাদশে পড়ার সময়ে আটটি ত্রৈমাসিকের প্রতিটিতে একটি করে পরীক্ষা নিতে হবে। এই আটটি পরীক্ষা মিলিয়ে ৪০% ওয়েটেজ ধার্য করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

# আরও ৪০% ওয়েটেজ ধার্য হয়েছে কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২-৬ সপ্তাহের ইন্টার্নশিপের উপর। সেই প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়ন যোগ হবে চূড়ান্ত পর্বে।

# এর পরে কেন্দ্রীয় স্তরে হবে এখনকার নিট বা জয়েন্ট এন্ট্রান্সের মতো একটি পরীক্ষা যার প্রাপ্ত নম্বরের ওয়েটেজ মাত্র ২০% ধরে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই পরীক্ষাটি বছরে দু' বার নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন আর সুব্রহ্মণ্যম, প্রেম কালরা ও সুতীর্থ ভট্টাচার্যরা। যে পরীক্ষায় নম্বর বেশি উঠবে, আখেরে সেই নম্বরটিই বিবেচনা করা হবে ফাইনাল হিসেবে।

টানা আটটি পরীক্ষা

# এর ভালো দিকটি হলো, একটিমাত্র পরীক্ষার প্রস্তুতির বদলে ছাত্রছাত্রীরা ধারাবাহিক ভাবে পড়াশোনায় মন দেবে। কেননা, প্রতি তিন মাস অন্তর যে পরীক্ষাটি হবে, তার নম্বর শেষে যোগ হবে।

# এখন সারা দেশে নিট পরীক্ষা নেওয়া হয় বড়জোর ৫৫৭টি সেন্টারে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় সব উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলকেই এর আওতায় আনা যাবে। ফলে পরীক্ষার্থীদের যাতায়াতের সময় বাঁচবে এবং পরীক্ষার টেনশনও কম হবে হোম-সেন্টার বলে।

ইন্টার্নশিপ বাধ্যতামূলক

# সংবাদমাধ্যমকে সুব্রহ্মণ্যম জানিয়েছেন, শুধু পড়াশোনাতেই নয়, তাঁদের প্রস্তাবে জোর দেওয়া হয়েছে সামাজিক ও পেশাদার বুৎপত্তির (সোশ্যাল অ্যান্ড প্রফেশনাল অ্যাপটিটিউড) উপরেও। সে জন্যই ইন্টার্নশিপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

# উচ্চ মাধ্যমিকের পরে অন্তত দু' সপ্তাহ কোনও কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (আইআইটি, এনআইটি, আইআইএসসি, আইজ়ার ইত্যাদি) ইন্টার্নশিপ করা যায় যাতে, তা পরীক্ষার্থীদের জন্য নিশ্চিত করতে হবে কেন্দ্রীয় সরকারকে।

ফাইনাল পরীক্ষা# বছরে দু'বার ফাইনাল অ্যাসেসমেন্ট বা চূড়ান্ত মূল্যায়ন হিসেবে হবে নিট, জয়েন্ট এন্ট্রান্স বা কুয়েটের মতো পরীক্ষা। কিন্তু গোটা মূল্যায়ন পর্বে তার মূল্য ২০% হবে মাত্র।

# সেই চূড়ান্ত পরীক্ষাটি অনলাইন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে পরামর্শে।

# তিনটি পর্বের মূল্যায়ন মিলিয়ে চূড়ান্ত মেধাতালিকা তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রকে।

এই ধরনের আরও খবর জানতে এই সময়ে আসুন। লেটেস্ট নিউজ, শহরের তাজা খবর, দেশের খবর, ব্যবসার খবর, খেলার আপডেট, দৈনিক রাশিফল এবং লাইফস্টাইলের টিপস জানুন। আর ভিডিয়োর জন্য রয়েছে TimesXP

2024-07-10T06:23:59Z dg43tfdfdgfd