প্রবল তাপ! গরমের ছুটির পরেও গরহাজির পড়ুয়ারা

এই সময়: তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে ছুটি পড়েছিল স্কুলে স্কুলে। কিন্তু সেই ছুটির পরে যখন স্কুল খুলল, তখনও গরম একফোঁটা কমার লক্ষণ নেই। এই পরিস্থিতিতে দেড় মাস বাদে বিভিন্ন স্কুল খুললেও সোমবার কাঙ্খিত উপস্থিতি ক্লাসে ক্লাসে তেমন ছিল না বলেই জানাচ্ছেন প্রধান শিক্ষকরা। কোনও স্কুলে ৪০ শতাংশ, কোথাও ৩০ শতাংশ কোথাও ২০-২৫ শতাংশ পড়ুয়া এ দিন ক্লাসে অনুপস্থিত ছিল। ভ্যাপসা গরম থেকে পড়ুয়াদের খানিকটা স্বস্তি দিতে নানা স্কুল নিজেদের মতো কিছু পদক্ষেপও নিয়েছে।

মিত্র ইনস্টিটিউশন ভবানীপুর শাখার প্রধান শিক্ষক রাজা দে জানাচ্ছেন, তাঁদের স্কুলে এ দিন প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পড়ুয়াই গরমের কারণে আসেনি।

সোমবার মিড ডে মিলের উৎসাহও ছিল চোখে পড়ার মতো কম। রাজার কথায়, ‘আজ রুটিন অনুযায়ী মিড ডে মিলে ডিম ভাতের ব্যবস্থা ছিল। অন্যান্য সময়ে ডিমের দিন উপচে পড়ে ভিড়। কিন্তু এ দিন যারা উপস্থিত ছিল তারাও অনেকে মিড ডে মিল খেতে চায়নি।’

গরম থেকে বাঁচতে এই স্কুলে সুতির ইউনিফর্ম পরে আসার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শিয়ালদা এলাকার টাকি বয়েজ স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা স্বাগতা বসাক জানাচ্ছেন, তাদেরও মোটামুটি ৩০-৩৫ শতাংশ পড়ুয়া অনুপস্থিত ছিল। স্কুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে গরমের কারণে একেবারে টপ ফ্লোরে যে ক্লাসগুলি হয় সেখানে টানা একটি ক্লাসকে না বসিয়ে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বিভিন্ন ক্লাস সেখানে নেওয়া হবে।

পাশাপাশি নতুন পাখা, কুলার বসানো হয়েছে স্কুলে। রবীন্দ্রমুক্ত বিদ্যালয়ের পরীক্ষা চলছে বলে প্রতিদিন ঘুরিয়ে ফিরিয়ে একটি করে ক্লাসকে ছুটি দেওয়া হবে। দমদমের শ্রী অরবিন্দ বিদ্যামন্দিরে প্রধান শিক্ষক অসীম নন্দেরও দাবি, প্রায় ৩০ শতাংশ পড়ুয়া গরমের কারণেই এ দিন স্কুলে আসেনি। তাঁরা স্কুলে ওআরএস, ঠাণ্ডা জলের ব্যবস্থা রেখেছিলেন। যোধপুর পার্ক বয়েজ স্কুলে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকায় অনলাইনে ক্লাস হয়েছে সেখানে।

হিন্দু স্কুলেও ২০-২৫ শতাংশ পড়ুয়া অনুপস্থিত ছিল এদিন। প্রধান শিক্ষক শুভ্রজিৎ দত্ত জানান, যে পড়ুয়ারা উপস্থিত হতে পারছে না তাদের পড়াশোনায় যাতে ছেদ না পড়ে সে কারণে ক্লাসওয়ার্কের পুরোটাই হোয়াটসঅ্যাপে আপলোড করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উত্তর কলকাতার পার্ক ইনস্টিটিউশন স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুপ্রিয় পাঁজা বলেন, ‘আমরা ফোন করে পড়ুয়াদের অনুপস্থিতির কারণ জেনেছি। প্রায় প্রত্যেকেই জানিয়েছে, গরমের কারণে আসেনি।’

এই স্কুলে আপাতত ইন্ডোর গেমস খেলার বিষয়েই পড়ুয়াদের উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। যাদবপুর বিদ্যাপীঠে অবশ্য এ দিন অনুপস্থিতির হার তেমন ছিল না। কিন্তু সেখানেও ওয়াটার বেল পড়েছে। পড়ুয়া থেকে অভিভাবকদের রোদ চশমা, সুতির জামা-কাপড়, হাল্কা খাবার খাওয়া, ছাতা ব্যবহারের মতো একাধিক পরামর্শ দেওয়া হয়েছে স্কুলের তরফে।

এই ধরনের আরও খবর জানতে এই সময়ে আসুন। লেটেস্ট নিউজ, শহরের তাজা খবর, দেশের খবর, ব্যবসার খবর, খেলার আপডেট, দৈনিক রাশিফল এবং লাইফস্টাইলের টিপস জানুন। আর ভিডিয়োর জন্য রয়েছে TimesXP

2024-06-11T10:23:37Z dg43tfdfdgfd